সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নওদা শলুয়া গ্রামের সাংবাদিক রুবেল তালুকদার অপহরণের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রায়গঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করতে পারেননি ভুক্তভোগী সাংবাদিক। যেখানে আইনের বিধান অনুযায়ী অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে বাদী মামলা না করলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারে, সেখানে থানার বারান্দায় তিন মাস যাবত ঘুরেও মামলা করাতে না পারায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ এবং সাংবাদিকের পরিবার।
অপহরণের নেপথ্যে হুমকি ও জিডি
জানা যায়, অপহরণের দিন দুপুরে সাংবাদিক রুবেল তালুকদারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি রায়গঞ্জ থানায় সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেই হুমকিদাতারা ক্ষিপ্ত হয়েই গত ১৭ আগস্ট রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে টেনে হিসরে মারতে মারতে নিয়ে যায়। অপহরণের খবর জানাজানি হলে রুবেল তালুকদারের কর্মস্থল পত্রিকা অফিসের পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে খবর দেয় এবং সেনাবাহিনীর তৎপরতায় তিনি উদ্ধার হয়ে বাড়িতে ফেরেন। সাংবাদিক রুবেল অপহরণের বিষয়ে বাংলাদেশের স্বনামধন্য ১শতর অধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাংবাদিক রুবেল ‘জনতার আলো’ পত্রিকায় শিক্ষানবিশ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি অপহরণকারী এ সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করেছেন।
অদৃশ্য শক্তিতে থমকে আছে আইনি প্রক্রিয়া
সাংবাদিক রুবেল তালুকদার জানান, অপহরণের ঘটনায় সকল সাক্ষী এবং অপহরণের সময় ফোনের অডিও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও রায়গঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে মামলা নিচ্ছে না। উল্টো হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম মাসুদ রানার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অপহরণের বিষয়ে কথা বলতেই ফোনটি কেটে দেন এবং পরবর্তীতে বহুবার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, জিডির দায়িত্বে থাকা হাট পাঙ্গাসির ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবুল কুমার রায়ের বিরুদ্ধেও রয়েছে অজুহাত দেখানোর অভিযোগ। ভুক্তভোগী সাংবাদিক হতাশার সুরে বলছেন, “মামলা করতে না পেরে হতাশায় দিন যাপন করছি। আর অপহরণকারীরা বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর নতুন করে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছেন।
”পুলিশ যেন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের গোলাম”
মামলা গ্রহণে এই গড়িমসির পিছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিপ্লব ঘোষ, ছাত্রদল নেতা মুন্না সরকার, যুবদল নেতা মিজানুর, মান্নান সরকার ও হেদু এরা সকলেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণেই হয়তো থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর এরকম পুলিশিং ব্যবস্থা আমরা কামনা করিনি। একজন গণমাধ্যম কর্মী অপহরণ হলেও রায়গঞ্জের থানা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। থানা পুলিশ যেন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এখনো গোলাম হয়ে আছে। তার উদাহরণ রায়গঞ্জ থানার ওসি এবং হা পাঙ্গাসির ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবুল কুমার রায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রুবেল তালুকদার অবিলম্বে রায়গঞ্জ থানার ওসি এবং হাট পাঙ্গাসির ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবুল কুমার রায়ের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জনমনে বাড়ছে আস্থাহীনতা
অপহরণের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মামলা না নেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশের এমন নীরব ভূমিকা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনাস্থা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের এমন অসহায়ত্বে এলাকাবাসী দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের এমন রাজনৈতিক চাটুকারীতার ধীরে ধীরে রায়গঞ্জ থানায় এলাকায় বাড়ছে অপরাধ। বিচার হীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। তাই, সকলের প্রশ্ন? রক্ষকই যদি হয় ভক্ষক, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচারের জন্য যাবে কোথায়?





