বুধবার ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

আন্তর্জাতিক পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয় বাংলাদেশি দম্পতি আটক: আজিম ও বৃষ্টি

আন্তর্জাতিক পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয় বাংলাদেশি দম্পতি আটক: আজিম ও বৃষ্টি

আন্তর্জাতিক পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগে চট্টগ্রামের আজিম (২৯) এবং মানিকগঞ্জের বৃষ্টি (২৮) নামের এক দম্পতিকে বান্দরবান থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২৮ বছর বয়সী বৃষ্টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘বাংলাদেশের এক নম্বর মডেল’ হিসেবে পরিচয় দেন। তবে বাস্তবে তিনি আন্তর্জাতিক পর্ন সাইটে একজন জনপ্রিয় পারফর্মার। ২০২৪ সালের ১৭ মে তার প্রথম ভিডিও প্রকাশের পর থেকে মোট ১১২টি ভিডিওতে ২৬৭ মিলিয়নেরও বেশি ভিউ হয়েছে। বৃষ্টি ও আজিম একাধিক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে ভিডিও প্রচার করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করে নতুন কনটেন্টের লিংক শেয়ার ও দর্শকদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করার প্রচারণা চালান। গত অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে অন্তত ৫০টি পোস্টের মাধ্যমে তাদের এই কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া যায়।

বৃষ্টির ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট যথাক্রমে প্রায় ৪৯ হাজার ও ১২ হাজার ফলোয়ার সমৃদ্ধ। উভয় অ্যাকাউন্টে তিনি নিজেকে ‘বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান মডেল’ দাবি করেছেন। পোস্টে তারা স্বাধীন ও বিলাসী জীবনধারার ছবি, নগদ অর্থ, প্রাইভেট গাড়ি ও মোটরবাইকের চিত্র প্রকাশ করেছেন।

আজিম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। স্থানীয়রা তাকে ‘অন্ধকার জগতের মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট আজিমকে মাদক সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে কয়েকদিনের মধ্যে তিনি মুক্তি পান। আজিম নিজেই বলেছেন, “আমার বাবা-মা ও পরিবারের সবাই জানে যে আমরা পর্ন ভিডিও বানাই।”

দু’জনেই দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, তবে এখন সামাজিক মাধ্যমে তাদের জীবনযাপন বিলাসবহুল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা বাংলাদেশে বসেই ভিডিও ধারণ, সম্পাদনা ও আপলোড করতেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করছিলেন। তাদের পরিচালিত টেলিগ্রাম চ্যানেল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ভিডিও লিংক শেয়ার করা হতো। বিভিন্ন পোস্টে তারা আয়ের স্ক্রিনশট ও নগদ অর্থ দেখিয়ে নতুনদের এই পথে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতেন। তাদের চ্যানেলটি বিশ্বের জনপ্রিয় পর্ন সাইটগুলোর মধ্যে একটি শীর্ষস্থানে উঠে এসেছিল।

বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণ একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই দম্পতি শুধু নিজেরাই অপরাধ করছেন না, বরং অন্যদেরও এই পথে যুক্ত হতে উৎসাহিত করে বাংলাদেশে বসে পর্ন ভিডিও বানানো এবং প্রচারের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছিলেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে না এলেও তাদের কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে।

মন্তব্য করুন:

channel muskan ads