ব্যবসায়ী আশরাফুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জরেজুল ইসলাম (৩৯) ও শামীমা আক্তারকে (৩৩) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র্যাব। এই গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানাতে শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুই বাহিনী পৃথক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানেই দুই আসামির জবানবন্দিতে পাওয়া গেছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য।
র্যাবের ভাষ্যমতে, আশরাফুলকে ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, ত্রিভুজ প্রেমের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
র্যাবের সংবাদ সম্মেলন:
সকাল ১০টায় কারওয়ান বাজারে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসামি শামীমার জবানবন্দি অনুযায়ী, শামীমা ও জরেজুলের মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জরেজুল পরিকল্পনা করেন আশরাফুলকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায় করবেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শামীমা আশরাফুলকে শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান এবং এরপর আশরাফুল ও শামীমার ভিডিও ধারণ করা হয়। এই ভিডিও দেখিয়ে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা ছিল। র্যাব শামীমার মোবাইল থেকে ধারণকৃত ভিডিওটি উদ্ধার করেছে।
র্যাব আরও জানায়, ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল অচেতন হয়ে পড়লে জরেজুল তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগান এবং হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে হত্যা করেন। ১৩ নভেম্বর সকালে মরদেহ গুম করার জন্য বাজার থেকে প্লাস্টিকের ড্রাম ও অন্যান্য সরঞ্জাম আনা হয়। এরপর জরেজুল চাপাতি দিয়ে লাশ টুকরা করে দুটি ড্রামে ভরে সিএনজি অটোরিকশায় করে হাইকোর্ট এলাকায় ফেলে আসেন।
র্যাব আশরাফুলের রক্তমাখা সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা, হত্যায় ব্যবহৃত দড়ি ও স্কচটেপ উদ্ধার করেছে।
পুলিশের সংবাদ সম্মেলন:
বেলা ১২টায় মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম আরেক আসামি জরেজুল ইসলামের জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন।
ডিবি কর্মকর্তা জানান, মূল আসামি জরেজুল ইসলাম মালয়েশিয়াপ্রবাসী। সেখানে একটি অ্যাপের মাধ্যমে শামীমা আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় দেড় মাস আগে জরেজুল দেশে আসেন এবং শামীমার সঙ্গে তার ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে।
জরেজুলের স্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরে জরেজুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশরাফুল ইসলামের সাহায্য চান এবং শামীমার নম্বর আশরাফুলকে দেন। এরপর আশরাফুল শামীমার প্রেমে পড়ে যান এবং তাদের মধ্যে ভিডিও কলে যোগাযোগ হতে থাকে।
ডিবি’র অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এরই মধ্যে শামীমা ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে জরেজুলকে জাপান পাঠানোর কথা বলেন, যার মধ্যে ৭ লাখ টাকা তিনি নিজেই দেবেন বলে জানান। শামীমার কাছ থেকে টাকা ও জাপান যাওয়ার কাজ শুরুর জন্য ১১ নভেম্বর জরেজুল ও আশরাফুল রংপুর থেকে ঢাকায় আসেন এবং শনির আখড়ায় তারা তিনজন একটি বাসা ভাড়া নেন।
পরবর্তীতে জরেজুল আশরাফুল ও শামীমার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে শামীমা চিৎকার করলে আশরাফুলের হাত বেঁধে জরেজুল হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর আশরাফুলের মুখের ভেতরে ওড়না ঢুকিয়ে স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে দেন, যার কিছুক্ষণ পর আশরাফুলের মৃত্যু হয়। এরপর তারা মরদেহ টুকরা করে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে হাইকোর্ট এলাকায় ফেলে দেন।
এই দুটি ভিন্ন তথ্যপ্রবাহ আশরাফুল হত্যা মামলার রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
সূত্র : যুগান্তর





