ইসরায়েলের হামলা আল-আকসা মসজিদে, নিন্দা বাংলাদেশের

আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে নিরীহ মুসল্লি ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলের হামলা ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক জাররাহ এলাকায় ফিলিস্তিনি পরিবারের উচ্ছেদ এবং বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে অধিকৃত অঞ্চলে স্থানান্তরিত করার ফলে এই ভয়াবহতা প্রকাশ পায়। এটি মানবিক মানদণ্ড, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন এবং চুক্তির চরম লঙ্ঘন। ইসরায়েলের এ হামলা সারা বিশ্ব জুড়ে মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ধরনের সন্ত্রাসী প্রকৃতির আক্রমণ বন্ধ করার জন্য টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়। ইসরায়েল কর্তৃক অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা বন্ধ করতে হবে।

১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত এবং পূর্ব জেরুজালেমকে এর রাজধানী হিসেবে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের ভিত্তিতে প্যালেস্টাইন রাজ্য প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন রেজুলেশনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি কার্যকর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অখণ্ডতায় একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন স্বদেশের জন্য ফিলিস্তিনের অবিচ্ছেদ্য অধিকারসমূহ দৃঢ়ভবে সমর্থন করে বাংলাদেশ।

এদিকে জেরুজালেমে মুসলিমদের পবিত্র স্থাপনা আল-আকসা মসজিদে তারাবির নামাজরত মুসলিমদের সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। গত শনিবার রাজধানী আঙ্কারায় এক অনুষ্ঠানে এরদোয়ান ইসরাইলের এমন জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি ইসরাইলকে ‘নিষ্ঠুর ও সন্ত্রসী রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

এরদোয়ান বলেন, ‘নিষ্ঠুর ইসরায়েল ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েল নির্দয় এবং অনৈতিকভাবে জেরুজালেমে মুসলিমদের আক্রমণ করছে।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘তুরস্ক অবিলম্বে জাতিসংঘ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ও সব প্রাসঙ্গিক প্রতিষ্ঠানকে পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

এদিকে জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি পুলিশের মধ্যে চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। গতকাল রোববার পবিত্র এই নগরীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের অনুরোধ করেছেন পোপ।

আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে জানায়, রোমের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে জড়ো হওয়া তীর্থযাত্রীদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে পোপ ফ্রান্সিস বলেন, ‘পবিত্র এই শহরের বহু-ধর্মীয় ও বহু-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি সবার শ্রদ্ধা জানানো উচিত। সহিংসতা আরও সহিংসতা তৈরি করবে। অতএব আসুন, আমরা সংঘর্ষ পরিহার করি।’

পোপ আরও জানান, জেরুজালেমের চলমান ঘটনাবলিকে তিনি উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করি, এটি সবার উপাসনা ও শান্তির স্থান হোক। সংঘর্ষ ও সহিংসতার স্থান না হোক।’

আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসরায়েলি পুলিশ জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। পাল্টা হিসেবে ফিলিস্তিনিরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারেন। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০৫ জন ফিলিস্তিনি ও ১৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

জেরুজালেমের পুরানো শহরাঞ্চল আল জাররাহ থেকে কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে ইহুদিবাদি দখলদারেরা উচ্ছেদ করবে—এমন খবরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে ইসরায়েলি পুলিশ আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের ওপর চড়াও হয়। গত শুক্রবার রাতের ঘটনায় মুসল্লিদের বেশিরভাগ মসজিদের অভ্যন্তরেই আহত হন।

খবরটি শেয়ার করুন

Edumint LMS

x