দীর্ঘদিনের নেতৃত্বে একটি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে তিনি পরিণত করেছেন সেরা বিদ্যাপীঠগুলোর একটিতে। তাঁর দক্ষ পরিচালনায় হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ হয়েছে আলোকিত অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসাইন।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এই কথাটি কেবল পাঠ্যবইয়ের বুলি নয়, একে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এমন কিছু মানুষ আছেন যারা নীরবে নিভৃতে কাজ করে যান। তাঁরা আলোর বাতিঘর হয়ে পথ দেখান অগণিত শিক্ষার্থীকে। এমনই একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাগুরু হলেন এমডিসি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সুযোগ্য অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসাইন। তাঁর দীর্ঘ এবং সফল নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি আজ রাজধানীর অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
যখন তিনি এমডিসি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন এটি ছিল একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাঁর দূরদর্শী পরিকল্পনা, কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। তিনি শুধু একজন প্রশাসকই নন, তিনি একাধারে একজন অভিভাবক, পথপ্রদর্শক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণার এক বিশাল উৎস।
বদলে যাওয়ার গল্প:
মোঃ আনোয়ার হোসাইনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন। পাশাপাশি পড়াশোনার মানোন্নয়নে গ্রহণ করেন যুগোপযোগী সব পদক্ষেপ। তাঁর হাত ধরেই ক্লাসরুমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল কনটেন্ট ভিত্তিক পাঠদান এবং শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রতি বছরই ঈর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
শুধু পড়াশোনা নয়, মানবিকতার শিক্ষাও:
অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসাইন বিশ্বাস করেন, ভালো ছাত্র হওয়ার আগে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। তাই একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তিনি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরেও নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায় এবং তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।
সবার প্রিয় ‘আনোয়ার স্যার’:
শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সবার কাছেই তিনি এক নামে পরিচিত এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। প্রতিষ্ঠানের একজন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, “স্যারের নেতৃত্বে আমরা একটি পরিবারের মতো কাজ করি। তিনি আমাদের যেকোনো সমস্যায় বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়ান এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেন। তাঁর মতো একজন অভিভাবক পেয়ে আমরা সত্যিই ভাগ্যবান।”
দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “অধ্যক্ষ স্যারকে আমরা কখনো ভয় পাই না, বরং শ্রদ্ধা করি। যেকোনো প্রয়োজনে তাঁর রুমে গেলে তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমাদের কথা শোনেন এবং সমস্যার সমাধান করে দেন। তিনি আমাদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য চাপ দেন না, বরং ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে
তোলার কথা বলেন।”
একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তান এই কলেজে পড়ে, এটা ভেবে আমি নিশ্চিন্ত থাকি। কারণ আমি জানি, আনোয়ার হোসাইন স্যারের মতো একজন দক্ষ ও যত্নশীল মানুষের হাতে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।”
আগামীর স্বপ্ন:
দীর্ঘদিন ধরে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে এলেও মোঃ আনোয়ার হোসাইন এখনো স্বপ্ন দেখেন প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে। তিনি বলেন, “আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো এমডিসি মডেল স্কুল এন্ড কলেজকে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। এখান থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করতে পারে, সেই মানসিকতা নিয়েই তাদের গড়ে তোলা হয়। যতদিন দায়িত্বে আছি, এই প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে যাব।”
মোঃ আনোয়ার হোসাইন শুধু একজন অধ্যক্ষ নন; তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন সফল কারিগর। তাঁর মতো শিক্ষাবিদের হাত ধরেই আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।





