বুধবার ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

কুলির টাকা মেরে পালালেন যাত্রী; ঘটনার পেছনের সত্য উন্মোচন!

কুলির টাকা মেরে পালালেন যাত্রী; ঘটনার পেছনের সত্য উন্মোচন!
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক কুলি, বাপ্পিকে, চলন্ত ট্রেনের দরজার হ্যান্ডেল ধরে দৌড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাকে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায়, “আল্লাহ আপনার কড়া বিচার করবেন,” এরপরই তিনি হ্যান্ডেল ছেড়ে দেন। এই ঘটনাটি দ্রুত নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

তবে এই ভাইরাল ঘটনার পেছনে রয়েছে এক ভিন্ন চিত্র। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বাপ্পি নামের ওই কুলি একজন যাত্রীকে ট্রেনে উঠতে সাহায্য করেছিলেন। বিনিময়ে যাত্রী তাকে কিছু পারিশ্রমিক দিতে চেয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে যাত্রী ১০ টাকা, পরে ৫০ টাকা দিতে চাইলেও, বাপ্পি ২০০ টাকা দাবি করেন। তার যুক্তি ছিল, তিনি দূর থেকে দৌড়ে এসে ট্রেন থামিয়ে সাহায্য করেছেন।

শেষ পর্যন্ত যাত্রী ২০০ টাকা দিতে রাজি হলেও, খুচরা টাকার অভাবে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পরও বাপ্পি কিছুদূর ট্রেনের দরজা পর্যন্ত দৌড়ে যান এবং টাকা না পেয়ে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “ওই যে ৫০ টাকা দিছে, ওইটাই নিছি। বলছি— আল্লাহ আপনারে বিচার করবো। আমি যদি লেজ হইয়া থাকি, তাহলে আমি পামু স্যার।”

এই ঘটনায় অনেকেই দিনমজুর বাপ্পির প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন এবং ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেওয়ায় যাত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে কিছু যাত্রী মনে করেন, রেলওয়ে স্টেশনে কুলিদের পারিশ্রমিক সুনির্দিষ্ট না থাকায় প্রায়শই এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেশন এলাকায় কুলিদের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা অনেক সময় যাত্রীদের মালপত্র জোর করে নিয়ে যায় এবং অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে হয়রানি করে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, “পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি ন্যায়বিচারেরও একটি অপরিহার্য অংশ।”

মন্তব্য করুন:

channel muskan ads