টোকিও, জাপান: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে দেওয়া ঐতিহাসিক বক্তব্যের জন্য বিখ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী তমিচি মুরায়ামা ১০১ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে তার জন্মস্থান ওইতা শহরের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে এএফপি জানিয়েছে।
মুরায়ামা ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলেই ১৯৯৫ সালে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জাপানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়ে সেই ঐতিহাসিক বক্তব্যটি দেন, যা পরবর্তীতে জাপানের যুদ্ধ-সংক্রান্ত ক্ষমাপ্রার্থনার মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
তিনি জাপানের সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও অংশ নেয়, যা জাপানের রাজনৈতিক শক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিল।
যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা:
মুরায়ামা ১৯৪৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাপানি সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে যোগ দেন, যেখানে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের শেষ দিকে খাদ্যের তীব্র অভাব ছিল এবং অস্ত্রও প্রায় ফুরিয়ে গিয়েছিল। “আমাদের হাতে বাঁশের তৈরি অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল। তখনই মনে হয়েছিল, এই অবস্থায় যুদ্ধ চালানো অসম্ভব,” বলেন তিনি।
ঐতিহাসিক ক্ষমাপ্রার্থনা:
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১৯৯৫ সালের আগস্টে জাপানের আত্মসমর্পণের ৫০ বছর পূর্তিতে মুরায়ামা সেই ঐতিহাসিক বক্তব্যটি দেন। তিনি বলেন, “জাপান তার ঔপনিবেশিক শাসন আর আগ্রাসনের মাধ্যমে অনেক দেশের, বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোর মানুষের বিরাট ক্ষতি ও দুঃখের কারণ হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না। আমি বিনীতভাবে এই ঐতিহাসিক সত্যগুলো স্বীকার করছি। আবারও গভীর অনুতাপ প্রকাশ করছি এবং আন্তরিক ক্ষমা চাইছি।”
তার এই বক্তব্য জাপানের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৬০তম এবং ৭০তম বার্ষিকীতে জাপানি প্রধানমন্ত্রীরাও তাদের বক্তব্যে ‘গভীর অনুতাপ’ ও ‘আন্তরিক ক্ষমা’ শব্দগুলো ব্যবহার করে মুরায়ামার পথ অনুসরণ করেন। তার মৃত্যু জাপানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাল।





