সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিচ্ছে পে কমিশন। সম্প্রতি, কমিশন বিভিন্ন সরকারি অ্যাসোসিয়েশন ও সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেছে, যেখানে বেশিরভাগ প্রতিনিধি সর্বনিম্ন বেতন ৩০,০০০ টাকার বেশি করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ২০২৬ সালের শুরুতেই নতুন পে স্কেল ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে কমিশন এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গত ১৪ আগস্ট পে কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে চারটি ক্যাটাগরিতে (সাধারণ নাগরিক, চাকরিজীবী, প্রতিষ্ঠানপ্রধান এবং বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন ও সমিতি) মতামত নেওয়া হয়। যদিও ১৬ অক্টোবর থেকে আলোচনা শুরুর কথা ছিল, তা কিছুটা বিলম্বে ২০ অক্টোবর শুরু হয়।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হতে পারে। এরপর অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যাচাই-বাছাই করে গেজেট আকারে প্রকাশ করবে। কমিশনের সদস্যরা আশা করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই তারা সুপারিশ চূড়ান্ত করে জমা দিতে পারবেন।
কমিশনের মেয়াদ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও, সদস্যরা জানিয়েছেন যে অক্টোবরের মধ্যে সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা শেষ করে খসড়া তৈরি ও পর্যালোচনার পর ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
সরকারি সূত্র বলছে, নতুন সরকারের জন্য অপেক্ষা না করে কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার সাথে সাথেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হতে পারে।
এদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নেতারা জানিয়েছেন যে তারা এখনও ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। বর্তমান বাজারদর ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সেই কাঠামোতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের প্রত্যাশা, নতুন প্রস্তাবে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, মর্যাদা ও ন্যায্যতার প্রতিফলন ঘটবে এবং বৈষম্য দূর হবে।





