মালদা: ভাইফোঁটা মানেই ভাইবোনের অটুট বন্ধন আর দীর্ঘায়ু কামনার এক পবিত্র উৎসব। কিন্তু যাদের ভাই বা বোন নেই, তাদের জন্য এই দিনটি কেটে যায় এক ধরনের আক্ষেপ নিয়ে। এই শূন্যতা পূরণের এক অসাধারণ উদ্যোগ নিল পুরাতন মালদা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাচামারি গভর্মেন্ট কলোনির মির্জাপুর এলাকার জ্যোতি সংঘ ক্লাব। এক নজিরবিহীন গণ ভাইফোঁটার আয়োজন করে তারা অচেনা ভাই-বোনেদের মিলন ঘটিয়ে তৈরি করল এক নতুন দৃষ্টান্ত, যার প্রশংসা এখন সর্বত্র।
বৃহস্পতিবার (বৃহস্পতিবারের বদলে তারিখ দিলে ভালো হয়) ভাইফোঁটা উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়া থেকে শুরু করে হাইস্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে অংশ নেয়। মূলত সংশ্লিষ্ট এলাকার আশেপাশের সেসব ভাই-বোনদের কথা ভেবেই এই আয়োজন, যারা বছরের এই বিশেষ দিনটিতে পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ার কারণে বা অন্য কোনো কারণে ভাই বা বোনকে ফোঁটা দিতে বা নিতে পারছিল না। মির্জাপুর এলাকার কালী মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এই গণ ভাইফোঁটায় ৫০ জনেরও বেশি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া অংশ নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়।
অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের মধ্যে দশম শ্রেণীর অনন্যা রায় এবং একাদশ শ্রেণীর অনুশ্রী চ্যাটার্জী জানান, তারা পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান হওয়ায় কোনো দিনই ভাইফোঁটার আনন্দ উপভোগ করতে পারেননি। ভাই না থাকায় এই দিনটি তাদের কাছে হতাশার ছিল। কিন্তু স্থানীয় ক্লাবের এই উদ্যোগ তাদের সেই শূন্যতা পূর্ণ করেছে। অচেনা ভাইদের কপালে ফোঁটা দিয়ে এবং মিষ্টি খাইয়ে তারা দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, স্কুল পড়ুয়া অদ্রিনিল ঘোষ ও বিপ্লব চ্যাটার্জী, যারা বাড়িতে একমাত্র ছেলে, জানান যে বোনের অভাবে তারাও কোনোদিন ভাইফোঁটা নিতে পারেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইফোঁটার নানা পোস্ট দেখে তাদেরও ইচ্ছে হতো, কিন্তু পূরণ হতো না। জ্যোতি সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে অচেনা বোনেদের কাছ থেকে ফোঁটা নিতে পেরে তারা অত্যন্ত খুশি। বোনেরা ফোঁটা দেওয়ার পর তারা উপহার হিসেবে চকলেট ও মিষ্টি তুলে দিয়েছে।
জ্যোতি সংঘ ক্লাবের কর্মকর্তা এবং এই গণ ভাইফোঁটার অন্যতম উদ্যোক্তা বাপি রায় ও প্রতীক চ্যাটার্জী জানান, তাদের অনেকেরই বোন নেই, আবার কারোর দাদা নেই। এই অভাব পূরণের একটাই রাস্তা হলো গণ ভাইফোঁটা। ক্লাবের সমস্ত সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ফোঁটার পাশাপাশি লুচি, মিষ্টিসহ নানা মুখরোচক খাবারেরও ব্যবস্থা ছিল। স্থানীয় এলাকার অসংখ্য ছেলেমেয়ে এই গণ ভাইফোঁটায় অংশ নিয়ে আনন্দ ও উৎসবের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করেছে। এই অভিনব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, মানবিকতা ও সদিচ্ছা থাকলে ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলোকেও নতুন মাত্রায় উদ্ভাসিত করা সম্ভব।





