শনিবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’ ধেয়ে আসছে, জ্যামাইকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’ ধেয়ে আসছে, জ্যামাইকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা
ছবি : এআই মডেল

ভয়াবহ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’ দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসছে, যা বর্তমানে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে রূপান্তরিত হয়েছে। এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৫৭ কিলোমিটার, যার ফলে জ্যামাইকায় রেকর্ড ভাঙা ধ্বংসযজ্ঞের প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি মঙ্গলবার সকালে জ্যামাইকায় আঘাত হানতে পারে। এটি দেশটির ইতিহাসে আঘাতকারী সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হতে চলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ‘মেলিসা’-র কেন্দ্র জ্যামাইকার রাজধানী কিংস্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ৫ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই ধীর গতির কারণে একই অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

সোমবার সকালে এনএইচসি এক বিবৃতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বাইরে না যাওয়ার জন্য কঠোরভাবে অনুরোধ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে যে, আজ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত পাহাড়ি অঞ্চলে বিধ্বংসী ঝোড়ো হাওয়া এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।

সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, জ্যামাইকার সরকার ইতিমধ্যেই উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, বিশেষ করে কিংস্টনের কিছু অংশ থেকে বাসিন্দাদের বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে।

দেশটির আবহাওয়া বিভাগের প্রধান ইভান থম্পসন জানিয়েছেন, ঝড়ের কেন্দ্র দক্ষিণ উপকূলে পৌঁছালে দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ৯ থেকে ১৩ ফুট পর্যন্ত হতে পারে, যা ব্যাপক বিধ্বংসী হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মেলিসা’-র প্রভাবে আগামী বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণ হাইতি এবং জ্যামাইকার কিছু অংশে ৭৬০ মিমি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু এলাকায় এই বৃষ্টিপাত ১ হাজার ২০ মিমি পর্যন্ত ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এনএইচসি সতর্ক করেছে যে, পাহাড়ি অঞ্চলে বাতাসের গতি নিচু এলাকার চেয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে। এর ফলে গাছ উপড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং ভবনের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্যামাইকা ছাড়াও পূর্ব কিউবা, দক্ষিণ বাহামাস এবং টার্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জেও হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা না থাকলেও, দেশটির পূর্ব উপকূলে উত্তাল সমুদ্র এবং বিপজ্জনক রিপ কারেন্ট দেখা দিতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করেছে।


মন্তব্য করুন:

channel muskan ads