শনিবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

পড়াশোনার পাশাপাশি সবজি ও মাছ চাষে সফল তরুণ উদ্যোক্তা মাইনুল

পড়াশোনার পাশাপাশি সবজি ও মাছ চাষে সফল তরুণ উদ্যোক্তা মাইনুল
ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা মো. মাইনুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি সমন্বিত সবজি ও মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাবার অনাবাদী পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সবুজের এক দৃষ্টিনন্দন বাগান ও সমন্বিত কৃষি খামার।

তিন বছর আগে মাত্র ৩৩ শতক জমিতে পুকুর খনন ও মাদা তৈরি করে বিভিন্ন জাতের সবজি ও মাছ চাষ শুরু করেছিলেন মাইনুল। বর্তমানে তার সেই ছোট উদ্যোগটি একটি সফল কৃষি খামারে রূপান্তরিত হয়েছে।

সরেজমিনে মাইনুলের খামার ঘুরে দেখা যায়, তার বাগানে আগাম জাতের লাউ, ধুন্দল, জালি কুমড়া, দেশি বোম্বাই মরিচ, বেগুন, শসা, করলা, শাম্মাম, মিষ্টি কুমড়া, পুঁই শাক, বস্তায় আদা চাষ এবং সারি সারি পেঁপে গাছের সমাহার। অন্যদিকে, পুকুরে রুই, কাতল, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, ফলি, পুঁটি ও ব্ল্যাক কার্প প্রজাতির মাছের চাষ হচ্ছে।

চলতি খরিপ মৌসুমে তিনি ইস্পাহানী কিং, রেড লেডি, শাহী ও বাবু জাতের ১২০টি পেঁপে গাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা আয় করেছেন। এছাড়াও অন্যান্য সবজি বিক্রি করে আরও প্রায় এক লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করেছেন।

মাইনুল ইসলাম বলেন, “আমি পটুয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষিকাজে বাবাকে সাহায্য করতে গিয়েই কৃষির প্রতি আমার আগ্রহ জন্মায়। বাবার অনুপ্রেরণা ও কৃষি অফিসের পরামর্শে এখন আমি একজন সফল কৃষক।”

মাইনুলের বাবা আ. সালাম মৃধা জানান, “একসময় সংসারের খরচ চালাতে কষ্ট হতো। এখন ছেলের উদ্যোগেই সবজি, মাছ ও কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে আমরা স্বচ্ছল জীবনযাপন করছি।”

পাশের এলাকার কৃষকরা বলেন, মাইনুলের সাফল্য দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজ নিজ জমিতে কৃষি খামার গড়ে তুলছেন।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, “মাইনুলের খামারে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।”

সুনান বিন মাহাবুব/পটুয়াখালী প্রতিনিধি

মন্তব্য করুন:

channel muskan ads