ফরিদপুর সদর উপজেলার এক পুরনো বাড়িকে ঘিরে রয়েছে এক ভৌতিক গুজব। স্থানীয়রা প্রতিদিনই রাত ৩টায় শুনতে পান কারো করুণ কান্নার শব্দ, যদিও আশপাশে কোনো মানুষ থাকে না। এই কান্না বছর কয়েক ধরে বাড়ির চারপাশে এক অদ্ভুত আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই বাড়িটি ‘আত্মার বাসা’ এবং রাতে যে কান্না শোনা যায় তা এক অদৃশ্য দুঃখী শিশুর কান্না।
১৯৯৫ সালে ঘটেছিল রহস্যময় দুর্ঘটনা
বাড়িটির নির্মাণকালে এর মালিক ব্রিটিশ প্রবাসী জন হ্যারিস এক রহস্যময় অবস্থায় মারা যান। লোকমুখে শোনা যায়, তিনি নিজেই ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়েন, কিন্তু কেউ সঠিক কারণ জানতে পারেননি। তারপর থেকে বাড়িতে অদ্ভুত ঘটনাগুলো শুরু হয়।
একবার ২০০৭ সালে এক টিভি ক্রু রাতে শুটিং করতে গিয়ে অদ্ভুত ছায়া দেখতে পায়। তাদের এক সদস্য সেই রাতেই নিখোঁজ হন। আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
২০২৫ সালের মে মাসে ভয়ঙ্কর ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে, ফরিদপুরের এক ইউটিউব ব্লগার দল এই বাড়িতে গিয়ে লাইভ স্ট্রিম করছিল। হঠাৎ তাদের ক্যামেরায় দেখা যায় কুয়াশার ভেতর থেকে মায়াবী এক নারীর কণ্ঠ “আমার বাচ্চাটারে দে…” বলে ডেকে ওঠে। এর পর ক্যামেরাটি বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ব্লগাররা মানসিক সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন,
“তাদের মানসিক অবস্থা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সাধারণ নয় এবং কোনো নেশাদ্রব্যের প্রভাবও নয়।”
তদন্তে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা
স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা কোনো অবৈধ কার্যকলাপ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি খুঁজে পায়নি। বাড়িটি বর্তমানে তালাবদ্ধ এবং ভাঙার পরিকল্পনা চলছে।
বাড়ির আশপাশের বাসিন্দারা বলেন,
“প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ৩টায় এই কান্নার শব্দ শোনা যায়, আর কখনও কখনও বাচ্চার হাসিও ভেসে আসে, তবে কেউ দেখে না।”
বিজ্ঞান বনাম অতিপ্রাকৃত
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি একটি সামাজিক বিভ্রম বা ‘Mass Hallucination’ হতে পারে। আবার লোকমুখে এই বাড়ির প্রেতাত্মার বাসা হিসেবে পরিচিতি।
উপসংহার
এ বাড়ির রহস্য এখনো বেঁচে আছে। ফরিদপুরবাসী আতঙ্কিত, আর ভ্রমণপিপাসুরা আকৃষ্ট হচ্ছেন এই রহস্যময় স্থান দেখতে। ভবিষ্যতে বাড়িটি ধ্বংস করা হলেও, এই গল্প মানুষের মুখে মুখে বাসা বাঁধবে।





