শনিবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

ফেসবুকে ‘হ্যাঁ-না’ পোস্টের ঝড়: নেপথ্যে কি গণভোট?

ফেসবুকে 'হ্যাঁ-না' পোস্টের ঝড়: নেপথ্যে কি গণভোট?
ফাইল ছবি

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি নতুন ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে: ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রোফাইলে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ লেখা ছবি পোস্ট করছেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় নিউজফিড ভরে উঠেছে, কিন্তু অধিকাংশ পোস্টে এর কারণ উল্লেখ করা হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই এই হঠাৎ করে শুরু হওয়া প্রচারাভিযান অনেকের মনে প্রশ্ন জাগাচ্ছে – এর পেছনের কারণ কী? কারা ‘হ্যাঁ’ এবং কারা ‘না’ এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, এবং কেনই বা নিচ্ছেন?

এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে গণভোটের বিষয়টি। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশমালা দিয়েছে, তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়ে অনড়। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নভেম্বরে গণভোট চায়, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে, যদিও তারা সুনির্দিষ্ট কোনো সময় উল্লেখ করেনি।

এই গণভোটের প্রশ্নেই মূলত ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। এই সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই ফেসবুকে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ লেখা ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির তাঁর ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ‘না’ পোস্ট দিয়ে এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ‘হ্যাঁ’ লিখে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে। কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে অথবা নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই ফেসবুকে ‘হ্যাঁ-না’ পোস্টের এই নীরব কিন্তু জোরালো প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণভোটের গুরুত্ব এবং এর সম্ভাব্য প্রভাবকে পুনরায় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

মন্তব্য করুন:

channel muskan ads