আসন্ন নির্বাচনের আগে বরিশালের ২০টি সংসদীয় এলাকার বিএনপিদলীয় ৬০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে রাজধানীর গুলশানে তলব করা হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। আগামীকাল বিকাল ৪টায় গুলশান কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকের পরই চূড়ান্তভাবে মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সবুজ সংকেত দেওয়ার কাজ শুরু হবে। চলতি মাসের শেষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রার্থীরা তাদের চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে জানতে পারবেন।
বরিশাল-৩ আসনে জটিলতা: হাইকমান্ডের সরাসরি হস্তক্ষেপ
তবে, বরিশালের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসন থেকে কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশীকে বৈঠকে ডাকা হয়নি। জানা গেছে, এই আসনে মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা এবং স্থানীয় এক নেতার অনড় অবস্থানের কারণে সেখানকার প্রার্থীরা বাদ পড়েছেন। দলের হাইকমান্ড সরাসরি এই বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা: তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি
জানা গেছে, বরিশালের ২১টি সংসদীয় এলাকায় বিএনপির মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এর আগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মধ্যভাগ পর্যন্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। সেই সাক্ষাৎকারেও সবাই ডাক পাননি; ২১টি আসনে মনোনয়ন চাওয়া সাড়ে তিনশর বেশি নেতার মধ্যে মাত্র ৫৩ জনকে ডাকা হয়েছিল।
দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, এবার মনোনয়নের বিষয়টি সরাসরি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পর্যবেক্ষণ করছেন। সব নির্বাচনি এলাকার মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট তিনটি ভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই রিপোর্টের সঙ্গে সাংগঠনিক টিমের দেওয়া তথ্য মিলিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এ কারণে আগের মতো দলের হাই প্রোফাইল নেতাদের পেছনে ছুটে কোনো লাভ হচ্ছে না। আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, জনপ্রিয়তায় প্রথম সারিতে থাকা এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যারা ছিলেন, এমন নেতারাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠকে ডাক পেয়েছেন।
বৈঠকের নির্দেশনা: যানজটমুক্ত রাখতে কঠোর ব্যবস্থা
আগামীকাল বিকাল ৪টায় বৈঠকের সময় নির্ধারিত থাকলেও, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ৩টার মধ্যে গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছাতে বলা হয়েছে। গুলশান অফিস থেকে ১ কিলোমিটার দূরে গাড়ি রেখে বাকি পথ হেঁটে বা অন্য কোনো বাহনে যেতে হবে। গুলশান অফিস এলাকা যানজট ও ভিড়মুক্ত রাখতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন আসনে ডাক পাওয়া উল্লেখযোগ্য প্রত্যাশীরা:
-
বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): জহির উদ্দিন স্বপন, আকন কুদ্দুসুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, অ্যাড. কামরুল ইসলাম সজল।
-
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): সরফুদ্দিন সান্টু, কাজী দুলাল হোসেন, রওনাকুল ইসলাম টিপু, সাইফ মাহমুদ জুয়েল।
-
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ): রাজীব আহসান, মেসবাহউদ্দিন ফরহাদ, অ্যাড. হেলালউদ্দিন, আব্দুল খালেক হাওলাদার।
-
বরিশাল-৫ (সদর): মজিবর রহমান সরোয়ার, আবু নাসের রহমতউল্লাহ, এবায়েদুল হক চাঁন, মনিরুজ্জামান ফারুক।
-
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): আবুল হোসেন খান, নজরুল ইসলাম খান রাজন।
-
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া): রফিকুল ইসলাম জামাল, গোলাম আজম সৈকত।
-
ঝালকাঠি-২ (নলছিটি-ঝালকাঠি): মাহবুবুল হক নান্নু, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, অ্যাড শাহাদাৎ হোসেন, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জাকারিয়া।
-
পিরোজপুর-১ (সদর-জিয়ানগর-নাজিরপুর): নজরুল ইসলাম খান, অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সাইদুল ইসলাম কিসমত, এলিজা জামান।
-
পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-স্বরূপকাঠি): মাহমুদ হোসাইন ভিপি মাহমুদ, ফখরুল আলম, সুমন মঞ্জুর, আহসান কবির, আল বিরুনী সৈকত।
-
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া): রুহুল আমিন দুলাল, কর্নেল (অব.) শাহজাহান মিলন, হুমায়ুন কবির, এআরএম মামুন।
-
বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী): নজরুল ইসলাম মোল্লা, মতিউর রহমান তালুকদার, ফিরোজ উজ জামান মামুন, ফারুক মোল্লা।
-
বরগুনা-২ (বামনা-বেতাগী-পাথরঘাটা): নুরুল ইসলাম মনি।
-
ভোলা-১ (সদর): গোলাম নবী আলমগীর, হায়দার আলী লেনিন, রাইসুল ইসলাম, শফিউর রহমান কিরন।
-
ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান): হাফিজ ইব্রাহিম, শহিদুল্লাহ তালুকদার।
-
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন): মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন।
-
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা): নুরুল ইসলাম নয়ন, নাজিমউদ্দিন আলম।
-
পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকি-মির্জাগঞ্জ): স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
-
পটুয়াখালী-২ (বাউফল): মুনির হোসেন, শহিদুল আলম তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার।
-
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা): হাসান মামুন।
-
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী): এবিএম মোশাররফ, মনিরুজ্জামান মনির।
-
বরগুনা থেকে আরও একজনকে ডাকা হয়েছে বৈঠকে।
দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, এই বৈঠক একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। বিএনপির মতো বড় দলে প্রতিটি আসনেই ৪-৫ জন করে যোগ্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রয়েছেন। তিনি জানান, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। তার মতে, মনোনয়ন চাওয়া বা এমপি হওয়া বড় কথা নয়, বরং ধানের শীষের বিজয়ই সবার মূল লক্ষ্য।
সূত্র : যুগান্তর





