সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে আবারও উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পরিকল্পনার কারণে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। আর এই উত্তেজনার পারদ যত চড়ছে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদাও তত বাড়ছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১১৯.৪৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেশি। উল্লেখ্য, এর আগের দিন স্বর্ণের দাম প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল।
একইভাবে, ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৩৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা আগের তুলনায় ১.৮ শতাংশ বেশি।
ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু ঘটনাপ্রবাহ এই মূল্যবৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার বৃহৎ তেল কোম্পানি লুকঅয়েল ও রসনেফটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ল্যাপটপ থেকে শুরু করে জেট ইঞ্জিন পর্যন্ত বিভিন্ন সফটওয়্যার-নির্ভর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে। এর আগে বেইজিং সম্প্রতি বিরল খনিজ রপ্তানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
চলতি বছর স্বর্ণের দাম প্রায় ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। গত সোমবার ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩৮১.২১ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছেছিল স্বর্ণের দাম। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশ্বজুড়ে সুদহার কমার প্রত্যাশা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক স্বর্ণ কেনা এই অভূতপূর্ব মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পরিবর্তন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্পট রুপার দাম প্রতি আউন্স ১.৭ শতাংশ বেড়ে ৪৯.৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দামও ২.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৫৯.৫০ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৫০ ডলারে ঠেকেছে।





