দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তার পরিবারের সদস্য এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এক বড় ধাক্কা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাদের মালিকানাধীন ১০৫টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের মোট ৫১৩ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার ২৮৬টি শেয়ার জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শেয়ারগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা।
সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করেন। দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় দুদকের উপপরিচালক তাহসিন মোনাবিল হক এই শেয়ার জব্দের জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন।
দুদক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশাল অঙ্কের শেয়ার জব্দের আবেদন করার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন, এস আলম ও তার সহযোগীরা তাদের মালিকানাধীন এই শেয়ারগুলো অন্যত্র হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে, সম্পদের অপব্যবহার রোধ এবং আইনি প্রক্রিয়াকে সুসংহত করার জন্য আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।
এটি এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের প্রথম বড় পদক্ষেপ নয়। এর আগে, গত ৯ জুলাই একই আদালত দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে এস আলম গ্রুপ চেয়ারম্যান, তার পরিবার ও তাদের সহযোগীদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পর পর দুটি বড় আদেশ এই শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক কার্যক্রম এবং আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা দেশের অর্থনৈতিক ও কর্পোরেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি দেশের দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে এবং বার্তা দেয় যে, আইনের চোখে সবাই সমান। এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকে এই আদেশের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে, এই আদেশের ফলে গ্রুপটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং বাজারে তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী ধাপগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।





