মঙ্গলবার ১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ময়মনসিংহের ভূতুড়ে সেতু: রাতের বেলায় দেখা মেলে অদৃশ্য যাত্রীর!

ময়মনসিংহের ভূতুড়ে সেতু: রাতের বেলায় দেখা মেলে অদৃশ্য যাত্রীর!

ময়মনসিংহ শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর ওপর নির্মিত একটি পুরোনো সেতু। দিনের আলোয় এ সেতু দেখতে খুবই সাধারণ, বহু মানুষের যাতায়াতের পথ। কিন্তু রাত নামলেই এই সেতুটি যেন হয়ে ওঠে এক রহস্যময় ও ভয়ঙ্কর জায়গা—যেখানে ঘটে এমন সব অদ্ভুত কাণ্ড, যা ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।

সন্ধ্যার পর এলাকাবাসী এই সেতুর আশপাশে যেতে ভয় পান। অনেকে বলেন, রাত তিনটার দিকে সেতুর উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় না। দেখা মেলে ছায়ামূর্তি, শোনা যায় কারও কান্নার শব্দ, আবার কখনো বা শোনা যায় ছোট্ট শিশুর হাসি। বহু চালক নাকি মাঝরাতে গাড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। সেতুর মাঝখানে পৌঁছেই হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়, আবার কয়েক মিনিট পর নিজে থেকেই চলতে শুরু করে।


🎭 পুরোনো ইতিহাস, নতুন ভয়

১৯৮০ সালের এক ভোররাতে এই সেতুর ওপর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়। ট্রাকের ভেতর ছিল একটি পরিবার, যাদের সকলেই নিহত হয়। এই দুর্ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় ভয়াবহ কাহিনি।

সেতুর আশপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দারা বলেন, ঘটনার পর থেকে সেতুর উপর অদ্ভুত জিনিস দেখা যায়। কেউ বলেন, মাঝরাতে হঠাৎ করে সেতুর একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা নারী দেখা যায়, যিনি বলছেন— “আমার সন্তান কোথায়?” কিন্তু কাছে গেলে আর কেউ থাকে না।


🎥 ক্যামেরাও ধরা পড়েছে অদ্ভুত দৃশ্য!

২০২৩ সালের দিকে এক ইউটিউব টিম এসে এই সেতুতে রাত কাটিয়ে ডকুমেন্টারি শুট করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা ৩টি ক্যামেরা স্থাপন করে এবং স্পেশাল অডিও ডিভাইস নিয়ে আসে। রাত দেড়টার দিকে এক ক্যামেরায় ধরা পড়ে হঠাৎ একটি ছায়া সেতুর মাঝখানে হেঁটে যাচ্ছে। অথচ আশেপাশে কেউ ছিল না।

সাউন্ড রেকর্ডারে পাওয়া যায় গলার আওয়াজ— “তুই তো আমারে ফালাইয়া গেলি, না?”
কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, ভিডিও শ্যুটের পর টিমের একজন সদস্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একমাস ধরে চিকিৎসা নিতে হয়।


🧠 বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি হতে পারে ট্রমাটিক হ্যালুসিনেশন বা সম্মিলিত মানসিক বিভ্রম। যারা ওই দুর্ঘটনার ইতিহাস জানেন, তারা সহজেই এমন কল্পনার শিকার হতে পারেন।
কিন্তু স্থানীয় মাওলানা আবদুল খালেক বলেন,
“এই জায়গায় কিছু একটা আছে। জিন জাতির আবাসও হতে পারে। আমরা ওই পথ রাতে এড়িয়ে চলি।”

একই মত পোষণ করেন গ্রামের প্রবীণ মুসা চাচাও। তিনি বলেন,
“একবার আমার ছেলে রাত সাড়ে তিনটায় ওই সেতু পাড় হতে গিয়ে দেখে সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন বোরখা পরা নারী। তার চোখ ছিল লাল! কিন্তু মূহূর্তেই মিলিয়ে যায়।”


🚨 প্রশাসনের বক্তব্য

স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার ঘটনাস্থলে তদন্ত করেছে। কিন্তু কোনো প্রমাণ মেলেনি। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সিসি ক্যামেরাও বসানো হয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে সেই ক্যামেরাগুলোর ভিডিও ফিড অস্পষ্ট হয়ে যায় বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।


🕳️ উপসংহার

ময়মনসিংহের কালিন্দী সেতু কি কেবলই একটি পুরোনো দুর্ঘটনার স্মারক? নাকি সত্যিই সেখানে অন্য এক জগতের অস্তিত্ব রয়েছে?
বিজ্ঞান যতই ব্যাখ্যা দিক, গ্রামের মানুষ এখনো ভয় পায়। আর সাহসী কেউ কেউ এখনো রাতের সেতুর রহস্য ভেদ করতে গিয়ে ফিরে আসে শূন্য হাতে—কখনো আতঙ্কিত, কখনো অভিভূত।

আপনি কি সাহসী? তাহলে চলুন একবার ওই সেতুতে রাতের বেলা হাঁটা যাক…

এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক

মন্তব্য করুন:

channel muskan ads