সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে যে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র জাতিসংঘে জমা না দিলে নাকি সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে। এই দাবিটি ‘ব্রেকিং নিউজ’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন পোস্টে এটি ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে।
তবে ফ্যাক্টচেকার সংস্থা রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘ বা অন্য কোনো সংস্থা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র জমা না দিলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রেও পাওয়া যায়নি।
যদি জাতিসংঘ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রচারিত হতো। কিন্তু, প্রাসঙ্গিক তথ্য খুঁজে দেখা গেছে, জাতিসংঘ, তাদের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল—কোথাও এই সংক্রান্ত কোনো ঘোষণার অস্তিত্ব নেই।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স দপ্তর (ওএমএ) গত ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ ছিল। তবে এর সঙ্গে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র বা সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।
অতএব, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র জাতিসংঘে জমা না দিলে সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। এটি একটি গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়, যা কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।





