শনিবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের দেশের অভ্যন্তরে থাকা সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই দুইজনের বিষয়ে সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।

এর আগে, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একই মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যিনি রাজসাক্ষী হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটিই প্রথম মামলার রায়, যা আজ ঘোষণা করা হলো। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছয় অধ্যায়ে বিন্যস্ত ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবী এবং জুলাই-আগস্টে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায়ে আদালত উল্লেখ করেন যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বারবার অভিযোগ করেছিল যে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী সকল অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা এবং সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা ছিলেন শেখ হাসিনা।

এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। সাবেক আইজিপি মামুন এই মামলার একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি, যিনি অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলা (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) গ্রহণ করে।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় এবং ওইদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তখন শেখ হাসিনাই ছিলেন মামলাটির একমাত্র আসামি। পরে এই বছরের মার্চ মাসে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সাবেক আইজিপিকে এই মামলায় আসামি করার জন্য প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছিলেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সময়কাল ছিল ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত। ১০ জুলাই তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়।

মন্তব্য করুন:

channel muskan ads