কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ী ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠান ঘিরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য তিনি মেসি এবং অগণিত ফুটবলপ্রেমীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। পাশাপাশি, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার গাফিলতি খতিয়ে দেখতে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার অনুষ্ঠান ভেস্তে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “সল্টলেক স্টেডিয়ামের আজকের অব্যবস্থাপনা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত ও হতবাক করেছে।” তিনি মেসি এবং তার ভক্তদের কাছে এই অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেন।
জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেও হাজারো দর্শকের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে স্টেডিয়ামের পথে ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। একই কারণে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত সৌরভ গাঙ্গুলি এবং শাহরুখ খানও স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আরও থাকছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। এই কমিটি ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পেশ করবে।
শনিবার সকালে মোহনবাগান ও ডায়মন্ড হারবারের প্রীতি ম্যাচ চলাকালে লিওনেল মেসি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মাঠের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া কিছু অতিউৎসুক দর্শক তার গাড়ির দিকে ধেয়ে গেলে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। গ্যালারি থেকে উত্তেজিত দর্শকদের একাংশ মাঠে নেমে পড়ে এবং বোতল ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটে। এমতাবস্থায় মেসির নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে দ্রুত মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিধাননগর পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়, যার ফলে পুরো আয়োজনটিই পণ্ড হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এটি ছিল লিওনেল মেসির দ্বিতীয় কলকাতা সফর। তবে এবারের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা রাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।





