বুধবার ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

সানজিদা ইসলাম তুলি: গুম-বিরোধী আন্দোলনের মুখ থেকে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী

সানজিদা ইসলাম তুলি: গুম-বিরোধী আন্দোলনের মুখ থেকে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী
ছবি: সংগৃহীত

সানজিদা ইসলাম তুলি, ‘মায়ের ডাক’ আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এক তরুণ সামাজিক কর্মী এবং নাগরিক আন্দোলনের সক্রিয় মুখ, এবার জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন। গুম হওয়া বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের ছোট বোন হিসেবে তিনি গুম-বিরোধী আন্দোলনকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছেন। এখন তাকে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দলের তরুণ নেতৃত্ব এবং মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।

গুম-বিরোধী আন্দোলনে সাহসী কণ্ঠস্বর

২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানী থেকে তার ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন গুম হওয়ার পর থেকেই তুলি এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে এক সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সমন্বয়কারী হিসেবে তিনি গুমের শিকার পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফোরামে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন মানবাধিকারকেন্দ্রিক আলোচনা এবং গণমাধ্যমে তিনি জোরালোভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেছেন।

রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত

যদিও বিএনপির রাজনীতিতে তুলির আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা তুলনামূলক নতুন, তবে দলের তৃণমূল এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ইতিমধ্যেই পরিচিত মুখ। তারেক রহমান সম্প্রতি তাকে ফোন করে ঢাকা-১৪ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে জানা গেছে। এটি তাকে বিএনপির একজন তরুণ, যোগ্য এবং প্রতীকী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে, বিশেষ করে গুম ও মানবাধিকার ইস্যুতে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করার পর তুলি পেশাগতভাবে মানবাধিকার ও সামাজিক গবেষণা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাকে দলের পরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ঢাকা-১৪ আসনে নতুন সমীকরণ

প্রাথমিকভাবে তুলি তেজগাঁও আসন (ঢাকা-১২) থেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন। তবে সেই আসনে গুম হওয়া ব্যারিস্টার আরমানকে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা থাকায়, তুলি এখন ঢাকা-১৪ আসনে মনোনিবেশ করছেন। এর ফলে এই আসন থেকে বিএনপি নেতা এস এ সিদ্দিক সাজু বাদ পড়ছেন।

তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ইউনিটের নেতারা সানজিদা ইসলাম তুলিকে নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। এই খবর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ইফতেখর রাজন নামে ঢাকা-১৪ আসনের একজন ভোটার ফেসবুকে লিখেছেন, “এখানে জামায়াত থেকে গুমের শিকার ব্যারিস্টার আরমানকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম বিএনপি ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো এক পাণ্ডাকে এখানে মনোনীত করবে। তাই মনে মনে আমি আমার ভোট ব্যারিস্টার আরমানের জন্য ঠিক করে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিএনপি’র এই মুভ তো আমাকে নতুন সমীকরণে ফেলে দিল।”

সানজিদা ইসলাম তুলির প্রার্থিতা ঢাকা-১৪ আসনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং এটি বিএনপির ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন:

channel muskan ads