শনিবার ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

সাবলেট হিসেবে উঠে শিশুর অপহরণ, যেভাবে চক্রটিকে ধরল পুলিশ

সাবলেট হিসেবে উঠে শিশুর অপহরণ, যেভাবে চক্রটিকে ধরল পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

ছোট শিশু আছে এমন বাসায় সাবলেট হিসেবে উঠে সখ্যতা গড়ে তোলা এবং সুযোগ বুঝে অভিভাবকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে শিশুদের অপহরণ করা—এমনই এক চাঞ্চল্যকর চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। অপহরণের পর শিশুদের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হতো। মুক্তিপণ না পেলে নির্যাতনের পাশাপাশি হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো।

সম্প্রতি কামরাঙ্গীরচরে আব্দুল হাদি নূর নামের চার বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের ঘটনায় ফয়সাল ও কাকলী নামের এক দম্পতিকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য উদঘাটিত হয়। জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আলীনগরের বাসায় শিশু নূর খেলছিল। পাশেই তার মা ঘুমিয়েছিলেন। ঘুম ভাঙলে তিনি দেখেন আদরের সন্তান পাশে নেই। একই সঙ্গে পাশের সাবলেটে থাকা দম্পতিও নিখোঁজ।

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও পাচ্ছিলেন না। পরে অপহরণকারীরা ফোন করে জানায় শিশুটি তাদের কাছে রয়েছে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ফোন বন্ধ করে দেয় এবং নম্বর ব্লক করে দেয়। শিশুটিকে নিয়ে পালানোর দৃশ্য একটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

পরবর্তীতে, শিশুর মায়ের ইমো নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে জানানো হয় নূরকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাকে ফিরে পেতে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নূরের মা সময় সংবাদকে জানান, অপহরণকারীরা ইমোতে মেসেজ করে কথা বলছিল, কিন্তু ফোন ধরছিল না। তারা ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে, অন্যথায় ছেলেকে বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেয়।

কিছু বুঝে উঠতে না পেরে ৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ অপহরণকারীদের কাছে পাঠানো হয়। অবশেষে পরিবার পুলিশের সাহায্য চায়। দুই দিন ধরে চেষ্টার পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে অপহৃতের অবস্থান মিরপুরে শনাক্ত করা হয়। এরপর ক্লাসিক আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে মো. পারভেজ ও কাকলী আক্তার দম্পতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

এই দম্পতি মাত্র ১৫ দিন আগে শিশুটির বাসায় সাবলেট হিসেবে ভাড়া উঠেছিল এবং তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছিল। ঘটনার দিন শিশুর মায়ের ঘুমের সুযোগ নিয়ে চিপসের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করে।

ডিএমপির কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, “অপহরণকারীরা পরিকল্পিতভাবে সাবলেট বাসা ভাড়া নিয়েছিল। সেখানে ফ্লোরিং করে থাকত। পরে সুযোগ বুঝে শিশুটিকে অপহরণ করে।”

পুলিশের ভাষ্যমতে, এই চক্র আবাসিক হোটেলে ভাড়া থাকে এবং সাবলেট হিসেবে অন্য বাসায় উঠে শিশুদের অপহরণ করে সেই হোটেলে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে। মুক্তিপণ আদায় করতে না পারলে শিশু বিক্রি করে দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ এই অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি তারা কোনো মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে। ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, “অপহরণকারীদের কাছে ১৫-২০টি সিম পাওয়া গেছে। এগুলোর একটিও তাদের নিয়মিত ব্যবহারের সিম নয়। তারা মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এ ধরনের বিপদ থেকে বাঁচতে সাবলেট দেওয়ার আগে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য করুন:

channel muskan ads