বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা ৭ আসনের সুসংগঠক হামিদুর রহমান হামিদ, যিনি দিনরাত নিরলস পরিশ্রমে এই আসনে এবিএপিকে শক্তিশালী করে চলেছেন, তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, বরং একজন জনদরদি সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত। মসজিদ থেকে মন্দির পর্যন্ত সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তার ছোঁয়া রয়েছে, যা তার জনসম্পৃক্ততারই প্রমাণ। প্রতিদিন তিনি সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে রাজনীতিতে সংগ্রাম ও ত্যাগের পরিচয় দিয়ে চলেছেন।

ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতিতে: আদর্শ ও সংগ্রামের পথে
হামিদুর রহমান হামিদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেখানো গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের আদর্শকে লালন করে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন হোক বা মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম – সব ক্ষেত্রেই তিনি রাজপথে ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়। বিএনপির কঠিন সময়গুলোতে তিনি ছিলেন একজন পরীক্ষিত সৈনিক। দলীয় নেতাকর্মীদের সাহস যোগানো, সংগঠিত রাখা এবং জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে সোচ্চার থাকা ছিল তার অঙ্গীকার। তার এই অবিচলতা তাকে দলের অভ্যন্তরে ও জনগণের মাঝে এক বিশেষ স্থান এনে দিয়েছে।

উন্নয়ন ও মানবিকতায় অগ্রণী ভূমিকা
এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র মানুষের সহযোগিতায় তিনি সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তার কার্যকালে সাধারণ মানুষ তাকে তাদের সমস্যার সমাধানকারী হিসেবে পেয়েছে। এজন্য তিনি এলাকায় একজন বিশ্বস্ত অভিভাবকসুলভ নেতা হয়ে উঠেছেন। তার এই ভূমিকা তাকে কেবল একজন রাজনীতিবিদ নয়, বরং একজন জনদরদি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
করোনা মহামারিতে “মানুষের জীবন রক্ষাকারী”
করোনাভাইরাস মহামারির সময় যখন সবাই আতঙ্কে ঘরে বন্দী, তখন হামিদুর রহমান হামিদ ছিলেন রাস্তায় ও মানুষের ঘরে ঘরে। খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ পৌঁছে দিয়েছেন অসহায় মানুষের কাছে। এলাকার অনেক মানুষ তখন বলেন, “হামিদুর রহমান হামিদ ভাই না থাকলে হয়তো আমরা বাঁচতে পারতাম না।” এই মানবিক ভূমিকার কারণে তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং একজন জনদরদি সমাজসেবক হিসেবেও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেন।
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা
বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে হামিদুর রহমান হামিদ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজপথে তিনি কর্মী-সমর্থকদের একত্রিত করে আন্দোলনকে গতিশীল রাখেন। বিপ্লবী চেতনায় তিনি সবসময় নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন। তখনকার অনেক নেতা-কর্মী মনে করেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সফল হওয়ার পেছনে হামিদুর রহমান হামিদ এর মতো সাহসী নেতাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তার এই ভূমিকা তাকে একজন সত্যিকারের সংগ্রামী নেতা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে অবিচল কণ্ঠস্বর
যখন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন চরমে পৌঁছায়, তখন অনেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে ও মামলার ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু হামিদুর রহমান হামিদ ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি রাজপথ ছাড়েননি, নেতাকর্মীদের ছেড়ে পালাননি। বরং তখন তিনি লুকিয়ে থাকা বা পলাতক থাকা বহু বিএনপি নেতা-কর্মীর পাশে দাঁড়ান, তাদের পরিবারকে সাহায্য করেন, আইনি সহায়তা দেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেন। এজন্য তাকে এলাকায় বলা হয় “সাহসী হামিদ।”
জনগণের ভালোবাসা: রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন
হামিদুর রহমান হামিদের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। তিনি কখনোই নেতা হিসেবে নিজেকে জনগণের ঊর্ধ্বে ভাবেননি, বরং সবসময় মানুষের কাছে সহজ-সরলভাবে উপস্থিত হয়েছেন। সুখে-দুঃখে, দুঃসময়ে কিংবা দুর্যোগে তিনি ছিলেন মানুষের পাশে। এই মানবিক দিকের কারণেই স্থানীয় জনগণ তাকে শুধু রাজনীতিবিদ নয়, একজন সামাজিক অভিভাবক হিসেবে স্মরণ করে।
একজন সাহসী, মানবিক ও সংগ্রামী রাজনীতিবিদ হিসেবে হামিদুর রহমান হামিদ বিএনপির আদর্শকে সামনে রেখে তার জীবনের প্রতিটি ধাপ কেটেছে জনগণের কল্যাণে। রাজনীতি ও সমাজসেবায় তার অবদান আজও এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। হামিদুর রহমান হামিদ প্রমাণ করেছেন, রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়, রাজনীতি মানে মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও সেবার দায়িত্ব পালন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, খালেদা জিয়ার সংগ্রাম ও তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা বুকে ধারণ করে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।





