Facebook
Twitter
WhatsApp

১ টাকার সিঙাড়ায় চলে সংসার

image_pdfimage_print

১ টাকায় সিঙাড়া পাওয়া যায়, শুনলে হয়তো অবাকই হবেন। কারণ এ সময়ে এক টাকার মূল্য নেই বললেই চলে। তবে মাগুরা সদরের গাংনালিয়া বাজারের পাওয়া যায় ১ টাকার সিঙাড়া। এ বাজারে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে এক টাকার সিঙাড়া বিক্রি করে যাচ্ছেন অসিত কুমার সাহা। তার এই সিঙাড়া খাওয়ার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে এ বাজারে ছুটে আসেন মানুষ। তবে সব থেকে বেশি ভিড় করেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, অসিত কুমার সাহার পরিবারের সদস্য ১০ জন। পরিবারের কেউই সরকারি-বেসরকারি কোনো চাকরি করেন না। সততা এবং কঠোর পরিশ্রমেই অভাবের সংসার এসেছে সচ্ছলতা। তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র সম্বল ছোট একটি সিঙাড়ার দোকান। সেই সিঙাড়া বিক্রি করা হয় মাত্র ১ টাকায়। রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে তাদের ১ টাকার সিঙাড়া ও চপ।

১ টাকার সিঙাড়া ও চপ ব্যবসায়ী অসিত কুমার সাহার বাড়ি মাগুরা সদরের গাংনালিয়ায়। তিনি এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ২৬ বছর। জীবনের শুরুতে ৪ আনাতে একটি সিঙাড়া বিক্রি করতেন। এরপর ২৫ পয়সা, তারপর ৫০ পয়সা। বতর্মানে বিভিন্ন উপকরণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সিঙাড়ার দাম এখন ১ টাকা। তার এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী, ছেলে অভিজিৎ সাহা ও অপূর্ব সাহাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। সুস্বাদু এ সিঙাড়া ও চপ খেতে ছুটে আসে দূর-দুরান্ত থেকে নানা বয়সের মানুষ।

মাগুরা সদরের হাজিপুর গ্রাম থেকে আসা আব্দুর সামাদ সিঙ্গারা খেতে খেতে বলেন, দামে সাশ্রয়ী ও খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় মানুষের কাছে এ সিঙাড়ার ব্যাপক চাহিদা। আমি সময় পেলেই এখানে সিঙাড়া ও বেগুনের চপ খেতে ছুটে আসি।

অসিত কুমার সাহার ছেলে অভিজিৎ সাহা বলেন, বাবা একা ব্যবসা সামলাতে পারেন না বলেই আমরা দুই ভাই বাবাকে সহযোগিতা করি। আমাদের এখানে সব সময় ভিড় লেগেই থাকে। প্রতিদিন চপ ও সিঙাড়া মিলে চার থেকে সাড়ে চার হাজার পিস বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার বাদে যেকোনো দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সিঙ্গারার পাশাপাশি আলুর চপ, বেগুনের চপ, ছোলা ভুনা ও পেঁয়াজুসহ অন্যান্য খাবারও বিক্রি করি।

গাংনালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী এনামুল হোসেন বলেন, সকাল থেকেই অসিতের সিঙাড়ার দোকানে ভিড় জমতে থাকে। তার সিঙাড়ার সুখ্যাতি এবং খেতে সুস্বাদু বলেই এখানে সবাই খেতে আসেন। দুপুরের দিকে তার দোকানে এত ভিড় হয় যে, মনে হয় এখানে মেলা বসেছে।

ব্যবসায়ী অসিত কুমার সাহা বলেন, ১ টাকায় সিঙাড়া, চপ বিক্রি করেও এ দ্রবমূল্যের বাজারে টিকে আছি। এটা ২৬ বছরের প্রচেষ্টা। স্কুল ও কলেজের ছেলেমেয়েরাই এখানে বেশি খেতে আসে। অনেকে আবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে খেতে আসে চপ ও সিঙাড়া। স্বল্প পুঁজির ছোট ব্যবসা দিয়েও ঘুরে দাঁড়ানো যায়। শুধু থাকতে হবে চেষ্টা আর পরিশ্রম। তবে বর্তমানে সব কিছুর দাম কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে গেছে। তবুও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষকে এই সেবাটা দিয়েই যাব।

খবরটি শেয়ার করুন

Table of Contents

সর্বশেষ

বিয়ের এক বছরেই দ্বিতীয় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা সারিকার

আয়াতকে ৬ টুকরো করে সাগরে ফেলে দেয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা

প্রধান উপদেষ্ঠা : আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এমপি, সংসদ-সদস্য ঢাকা ১৬,প্রকাশক : মোঃ মাসুদ রানা (জিয়া) ।সম্পাদক : শাহাজাদা শামস ইবনে শফিক।সহকারী সম্পাদক : সৌরভ হাসান সোহাগ খাঁন। 

Subscribe Now

নিউজরুম চিফ এডিটর : মোঃ শরিফুল ইসলাম রবিন।সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ মতিঝিল বা/এ, ৪থ তলা, সুইট-৪০২, ঢাকা- ১০০০বার্তা কক্ষ : ০১৬৪২০৭৮১৬৪ – বিজ্ঞাপনের জন্য : ০১৬৮৬৫৭১৩৩৭

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by www.channelmuskan.tv © 2022

x