Facebook
Twitter
WhatsApp

২০২৩ নিয়ে বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী

image_pdfimage_print

বুলগেরিয়ার অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য যার সুখ্যাতি ছিল। জীবিত থাকা অবস্থায় ২০২৩ সালের জন্যও কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন, যা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। মহাজাগতিক ঘটনাগুলো পৃথিবীতে বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে এমনটাও দাবি করেছিলেন। লিখেছেন নাসরিন শওকত

বুলগেরিয়ায় জন্ম নেন ভ্যাঙ্গেলিয়া পান্দেভা গুশতেরোভা। যিনি বাবা ভাঙ্গা নামেই বেশি জনপ্রিয়। ভেষজবিদ হিসেবেও তার সুখ্যাতি ছিল। অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ও রহস্যময় নারী বাবা ভাঙ্গা। পূর্বজ্ঞানতত্ত্ব , ভবিষ্যৎবক্তা ও মনোবিজ্ঞানে বিশ্বাসীদের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয়। বুলগেরিয়ার কঝুহ পর্বতে জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে তার। ছিলেন অন্ধ। তা সত্ত্বেও জীবদ্দশায় বিশ্বের আলোচিত ও বিপর্যয়কর অসংখ্য ঘটনার নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এমন অলৌকিক ক্ষমতার জন্য অনেকেই বাবা ভাঙ্গাকে বলকানের নস্ত্রাদামুস বলেও আখ্যায়িত করেন। নস্ত্রাদামুস ছিলেন বিখ্যাত ফরাসি জ্যোতিষী, চিকিৎসক, কবিরাজ ও স্বনামধন্য দ্রষ্টা।

১৯১১ সালের ৩ অক্টোবর। মেসিডোনিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বড় শহর স্ট্রুমিকার পারাস্কেভা সারচেভায় জন্ম নেন বাবা ভাঙ্গা। জন্ম থেকেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শৈশবকালে বাবা ভাঙ্গার বাবা ছিলেন মেসিডোনিয়ার বিপ্লবী সংগঠনের কর্মী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যিনি বুলগেরিয়ার সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন। এর পরই তার মা মারা যান। পরে প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যদের যত্নে তিনি বেড়ে উঠতে থাকেন। বয়সের তুলনায় তাকে বেশি মেধাবী হিসেবে ভাবত সবাই। বাবা ভাঙ্গাকে ১৯২৫ সালে সার্বিয়ার রাজ্য জেমুনের অন্ধদের স্কুলে ভর্তি করা হয়। ১৯৩৯ সালে প্লুরিসি রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকরা তার বাঁচার আশাই ছেড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন। এরই মধ্যে কেটে গেছে দুটি বছর। ১৯৪২-এ বুলগেরিয়ার সৈনিক দিমিতার গুশতেরভকে বিয়ে করেন বাবা ভাঙ্গা। এরপর নতুন দম্পতি বুলগেরিয়ার ব্লাগোয়েভগ্রাদের পেতরিচ শহরে চলে আসেন। এক দশক না কাটতেই ঘটনাচক্রে তার স্বামী গুশতেরভ মারা যান। বলা হয়ে থাকে, দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পর বাবা ভাঙ্গার সঙ্গে বুলগেরিয়ার রাজনীতিবিদদের থেকে শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির বড় বড় নেতার যোগাযোগ গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন স্তন ক্যানসারে ভুগছিলেন বাবা ভাঙ্গা। অবশেষে ১৯৬৬ সালের ১১ আগস্ট জনপ্রিয় এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টা মারা যান। মৃত্যুর পর তার পেতরিচের বাড়িকে জাদুঘরে রূপ দেওয়া হয়। বুলগেরিয়ার রুপিতে বাবা ভাঙ্গার সমাধি রয়েছে। বাবা ভাঙ্গার জীবদ্দশায় লাখো মানুষ তার কথিত আধ্যাত্মিক শক্তিতে বিশ্বাস করত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররে বলা হয়েছে, বিশ্বাস করা হয় সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন নেতা লিওনিদ ব্রেজনেভও বাবা ভাঙ্গার আধ্যাত্মিক সেবা গ্রহণ করতেন। মৃত্যুর আগে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ৫০৭৯ সালে মানব বসতির একমাত্র গ্রহ পৃথিবী ধ্বংস হবে।

দিব্যদৃষ্টি প্রাপ্তি

আর দশটা শিশুর মতোই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু বাবা ভাঙ্গার বয়স যখন ১২, ঠিক তখনই বাধে এক বিপত্তি। প্রলয়ঙ্করী এক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়েন। সেই ঝড়ের প্রবল বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে ফেলে দিয়েছিল দূরে। এরই মধ্যে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় চারদিকে। অবশেষে কয়েকদিন পর খোঁজ মেলে কিশোরী বাবা ভাঙ্গার। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের কয়েক দিন পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পান দূরের এক মাঠে। যেখানে ঝড়ের কাদামাটিতে মাখামাখি অবস্থায় পড়ে ছিলেন মুমূর্ষু অবস্থায়। যখন তার চেতনা ফেরে, তখন ব্যথায় চোখ খুলতে পারছিলেন না বাবা ভাঙ্গা। এর পরই তার চোখে সমস্যা দেখা দেয়। অস্ত্রোপচার করার পর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি।

ঝড়ের সেই নিখোঁজ সময়ে কোনো এক আধ্যাত্মিক শক্তির দেখা পাওয়ার দাবি করেছেন বাবা ভাঙ্গা। যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন তিনি। এছাড়াও মানুষের রোগ নিরাময়ের অলৌকিক ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন। দাবি করা হয়, ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা তার জীবদ্দশায় যত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তার ৮৫ শতাংশই মিলে গেছে।

১৯১২ সাল। তখন বাবা ভাঙ্গা সবে শিশু। সেই অল্প বয়সেই সামনে ঘটতে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে অনুভব করার আধ্যাত্মিক ক্ষমতা অর্জন করেন। কিন্তু অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী বাবা ভাঙ্গার জীবনের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের সেই অন্ধকার সময়ে। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে অলৌকিক শক্তি বা কোনো ঘটনা বলতে পারার দক্ষতার জন্য পূর্ব ইউরোপে ব্যাপকভাবে পরিচিতি পান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভাগ্য গণনা বা ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হিসেবে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ^জুড়ে। বাবা ভাঙ্গা তার জীবদ্দশায় বিশে^র বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। যা এরই মধ্যে ঘটে গেছে বিশ্বে।

২০২৩-এর উল্লেখযোগ্য ভবিষ্যদ্বাণী

অলৌকিক ক্ষমতাবলে এরই মধ্যে ভবিষ্যৎদ্রষ্টা হিসেবে বাবা ভাঙ্গার নাম-ডাক হয়েছে। ১৯৮৯ সাল। ভবিষ্যতের অনিষ্টের কথা জানাতে গিয়ে সে বছরই ২০০১ সালে টুইন টাওয়ারের ভয়াবহ হামলার পরিণতি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন তিনি। তার অনেক অনুসারীর মতে, বাবা ভাঙ্গা সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন থেকে শুরু করে জোসেফ স্ট্যালিনের মৃত্যু, ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলা এবং নিজের মৃত্যুর পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থান পর্যন্ত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। যেহেতু তিনি তার চিন্তাভাবনা লিখিত আকারে রেখে যাননি, তাই বাবা ভাঙ্গা ঠিক কী করেছিলেন বা কী বলেননি, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে। তা সত্ত্বেও দাবি করা হয়ে থাকে, তার ভবিষ্যদ্বাণীর বেশিরভাগই মিলে গেছে। তাই প্রতি বছরের শেষ দিকে এসে সবাই পেছনে ফিরে তাকান। আর মিলিয়ে দেখেন, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীর কোনটা ফলে গেল আর কোনটা ফলতে এখনো রয়ে গেল বাকি। অলীকদৃষ্টিসম্পন্ন এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টার অনেক ভবিষ্যদ্বাণীই এখনো পর্যন্ত ভবিষ্যতের জন্য তোলা রয়েছে। যার মধ্যে ২০২৩ সাল অন্যতম। ওই ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে আমাদের পৃথিবীর জন্য অপেক্ষা করছে বড় বিপদ।

সৌরম-লে ‘সুনামি’

বাবা ভাঙ্গা ২০২৩ সাল সম্পর্কে বেশ কয়েকটি উদ্বেগজনক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। আমাদের সৌরম-লে ঘটতে যাওয়া ভয়ংকর সৌরঝড় বা ‘সুনামি’ । যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সম্ভাব্য ওই সৌর ঝড়ের কারণে বিপর্যয়কর পরিণতি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা। ‘সৌর ঝড়’ বিষয়টি সূর্য পৃষ্ঠের বেশ কিছু ঘটনার সমষ্টিকে বুঝাতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে সৌর শিখা ও সৌরম-লের ব্যাপক উদগিরণ। এর পরের অংশটি হলো প্লাজমার বিশালাকারের বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণ ভূ-চুম্বকীয় ঝড়ের সৃষ্টি করে। যা বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোকে পুরোপুরি পুড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ইতিহাসে রেকর্ড করা এর সবচেয়ে নাটকীয় উদাহরণ হলো ১৮৫৯ সালে ‘ক্যারিংটন ইভেন্ট’। ওই বছর প্লাজমা বিস্ফোরণের জেরে টেলিগ্রাম নেটওয়ার্ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি তাতে আগুন ধরে যায় ও বৈদ্যুতিক শকও দেয়। ব্রিটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রিচার্ড ক্যারিংটনের নামে এই ঘটনার নামকরণ করা হয় ক্যারিংটন ইভেন্ট। আজকের এই বিদ্যুতায়িত বিশ্বে যদি এমন বিপর্যয় নেমে আসে, তাহলে যোগাযোগব্যবস্থা, পরিষেবা ও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব হবে একেবারেই অকল্পনীয়। প্রকৃতপক্ষে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করে থাকেন যে, সৌরম-লে এমন বিস্ফোরণ ঘটলে বিশ্বব্যাপী অবকাঠমো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যার জেরে অন্ধকার নেমে আসতে পারে পৃথিবীতে। এই অন্ধকার পরিস্থিতি বছরের পর বছর ধরে চলতে পারে। যার ফলে দেখা দিতে পারে সামাজিক বিশৃঙ্খলা। সেই সঙ্গে আর্থিক বাজারে এমন ধস নামতে পারে যা আগে কখনো দেখেনি বিশ্ব। তবে প্লাজমার ওই বিস্ফোরণে পৃথিবীজুড়ে এক অপরূপ ও অনন্য মেরু প্রভার দেখা মিলবে। সৌরম-লে প্লাজমার এই বিস্ফোরণের পৃথিবীতে পৌঁছানোর আভাস দিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা। যদিও নাসা বা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সেরকম কোনো সতর্কতা জারি করেননি।

কক্ষপথের পরিবর্তন

পৃথিবীর কক্ষপথের পরিবর্তন আসবে। আর এমন বিস্ময়কর পরিবর্তন ২০২৩ সালেই ঘটবে বলে আভাস দিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে যে পথে চলে, ২০২৩ সালে এসে সেই পথ পরিবর্তন করবে সে। বাবা ভাঙ্গার এই ভবিষ্যদ্বাণী বিশেষভাবে মনোযোগ কাড়ে। কারণ এই পরিবর্তন মানুষের বাসযোগ্য গ্রহ পৃথিবীতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। যার বড় শিকার হবে স্বয়ং মানুষ। সাধারণত আমাদের গ্রহ পৃথিবী প্রতি বছর সূর্যের চারপাশে ভ্রমণ করে ৫৮৪ মিলিয়ন মাইল। উপবৃত্তাকারের মহাকাব্যিক এই ভ্রমণটি দেখতে নিখুঁত একটি বৃত্তের চেয়ে ডিম্বাকৃতির মতো দেখায়। সৌরজগতের অন্য গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে সুনির্দিষ্ট ডিম্বাকৃতির আকার ধারণ করে এই ভ্রমণ । যার মানে পৃথিবী তার কক্ষপথ পরিবর্তন করতে পারে। এই ধরনের পরিবর্তনগুলো কয়েক হাজার বছর ধরে চক্রাকারে ঘটে থাকে। এমনকি এই ভ্রমণের সূক্ষ্ম ও ধীর পরিবর্তনেরও প্রভাব হতে পারে গুরুতর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এমন তত্ত্ব রয়েছে যে, কক্ষপথের এই পরিবর্তন প্যালিওসিন-ইওসিন থার্মাল ম্যাক্সিমাম ঘটনার জন্ম দিয়েছিল। প্রায় ৫৬ মিলিয়ন বছর আগে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যার ফলে বিশ^ তীব্র উষ্ণায়নের মুখে পড়ে তখন। যদি এক বছরের মধ্যে কক্ষপথের আমূল কোনো পরিবর্তন ঘটে, তবে তারও প্রভাব হবে বিধ্বংসী। সেক্ষেত্রে কারণ যাই হোক না কেন। এ পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক জলবায়ুর পরিবর্তনের শিকার হবে পৃথিবী। ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বিকিরণের মাত্রাও বাড়তে থাকবে। বাবা ভাঙ্গা তার ভবিষ্যদ্বাণীতে বলেছিলেন, গ্রহাণুর প্রভাবে পৃথিবীর কক্ষপথের পরিবর্তন ঘটবে। আর তা সত্যি হলে পৃথিবীতে বিধ্বংসী ঘটনা ঘটতে পারে।

জৈব অস্ত্রের পরীক্ষা

বাবা ভাঙ্গা তার দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেয়েছিলেন যে, ২০২৩ সালে বিশ্বে র একটি শক্তিশালী দেশ জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর চেষ্টা করবে। আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী এই নারী তার জীবদ্দশায় যতগুলো ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার মধ্যে এটি অন্যতম একটি বিরক্তিকর ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন আভাস। যে আভাস বর্তমানের অস্থির ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে অনেকটাই প্রাসঙ্গিক। তবে বাবা ভাঙ্গা তার ভবিষ্যদ্বাণীতে প্রকৃত অর্থে কোন দেশকে বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা জানা অসম্ভব। সেই সঙ্গে এই ধরনের পরীক্ষার পরিধি কী হতে পারে তাও স্পষ্ট নয়। এই পরীক্ষার সঙ্গে এমন প্রশ্নও উঠে আসে যে, তবে কি এই পরীক্ষার সঙ্গে মজুদকৃত ভাইরাসের সম্পর্ক রয়েছে? প্রকৃতপক্ষে কিছু জৈব অস্ত্র ব্যবহারের কারণে গবেষণাগারের পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ে। এমনকি যদি সেখান থেকে ওই জীবাণু অসাবধাণতাবশত বের নাও হয়, তারপরও এই ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে জৈব অস্ত্র সনদের লঙ্ঘন ঘটে। এর আগে বিষাক্ত পদার্থ ও উপাদান দিয়ে জৈব অস্ত্রের উৎপাদন ও উন্নয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সনদ লঙ্ঘনের নজিরও রয়েছে। এর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইরাকসহ বেশ কিছু দেশের বিরুদ্ধে এই সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। স্বস্তির কথা হলো, বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলো বেশ রহস্যময়। যা যাচাই করা এক অর্থে অসম্ভব। তার বেশ কিছু আভাস নিয়ে বেশ বিতর্কও রয়েছে। তাই ২০২৩ -এর শেষ পর্যন্ত জীবাণু অস্ত্র সম্পর্কে এই ভবিষ্যদ্বাণী যেন সত্য হয়ে না ওঠে।

পুতিনের সর্বময় ক্ষমতা

২৬ বছর আগে মৃত্যু হয় বাবা ভাঙ্গার। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, দৃষ্টিহীন এই আধ্যাত্মিক নারী বহু বিষয়ে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছেন। একবার বাবা ভাঙ্গা ভবিষ্যৎ গণনা করে বলেছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন পুরো বিশ্বশাসন করবেন এবং রাশিয়া ক্ষমতার শীর্ষে উঠে যাবে। তারও আগে তিনি চেরনোবিল বিপর্যয় ও প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুরও আভাস দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে বলেছিলেন, ‘বিশ্বের নিয়ন্ত্রণকারী’ দেশ হবে রাশিয়া। এদিকে ইউরোপের শক্তি ক্রমশ কমে আসতে থাকলে তারা একটি ‘বর্জ্যভূমিতে’ পরিণত হবে। পুতিনকে কেউ থামাতে পারবে না বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সব বরফের মতো গলে যাবে। সেখানে শুধুমাত্র একজনই অস্পৃশ্য থাকবেন, আর তিনি হলেন ভøাদিমির পুতিন। তার ও রাশিয়ার গৌরব থাকবে অক্ষুণœ।’ এমনকি ২০২৩ সালে পরমাণু বিস্ফোরণের ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন বাবা ভাঙ্গা।

এলিয়েন ও গবেষণাগারে শিশুজন্ম

২০২৩-এ ভিনগ্রহের এলিয়েনরা পৃথিবীতে আক্রমণ করবে বলে দৃষ্টিহীন এই ভবিষ্যদ্বক্তা আভাস দিয়েছিলেন। পৃথিবীতে তারা নতুন গ্রহাণু পাঠাবে। ফলে বিপদ বাড়বে পৃথিবীবাসীর। এদিকে বাবা ভাঙ্গার আরেক ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে, স্বাভাবিকভাবে শিশু জন্মের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে বাচ্চাদের জন্ম হবে গবেষণাগারে। যেখানে বাচ্চার লিঙ্গ ও গায়ের রং নির্ধারণ করতে পারবেন বাবা-মায়েরা। তিনি কৃত্রিম প্রজননের এই আভাস দিলেও স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে কোনো বাধা আসবে বলে জানাননি বিজ্ঞানীরা।

খবরটি শেয়ার করুন

Table of Contents

প্রধান উপদেষ্ঠা : আলহাজ্ব ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এমপি, সংসদ-সদস্য ঢাকা ১৬,প্রকাশক : মোঃ মাসুদ রানা (জিয়া) ।সম্পাদক : শাহাজাদা শামস ইবনে শফিক।সহকারী সম্পাদক : সৌরভ হাসান সোহাগ খাঁন। 

Subscribe Now

নিউজরুম চিফ এডিটর : মোঃ শরিফুল ইসলাম রবিন।সম্পাদকীয় কার্যালয় : ১২০/এ মতিঝিল বা/এ, ৪থ তলা, সুইট-৪০২, ঢাকা- ১০০০বার্তা কক্ষ : ০১৬৪২০৭৮১৬৪ – বিজ্ঞাপনের জন্য : ০১৬৮৬৫৭১৩৩৭

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

Developed by www.channelmuskan.tv © 2022

x