দুদলের শক্তির পার্থক্যটা বলে দিচ্ছে র্যাঙ্কিংই- আট নম্বরে থাকা বাংলাদেশের চেয়ে তিন ধাপ পিছিয়ে আয়ারল্যান্ড। এরপরও ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই হেরেছে বলে কিছুটা শঙ্কা ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতিদের নিয়ে। তবে অধিনায়কের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের কমতি ছিল না। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জ্যোতি জানিয়েছিলেন, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আধিপত্য দেখিয়েই জিতবে বাংলাদেশ।
অধিনায়কের ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি হলো। আজ মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ১৫৪ রানের জয়ে সিরিজে এগিয়ে (১-০) গেল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগের বড় জয়টা ছিল ১১৯ রানের (২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে)।
টস জিতে আগে ব্যাটিং করে শারমিন আক্তার সুপ্তার ৯৬ ও ফারজানা হকের ৬১ রানে ভর করে ৪ উইকেটে ২৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। মারুফা-নাহিদা-সুলতানাদের বোলিং তোপে রান তাড়ায় ২৮.৫ ওভারে ৯৮ রানে গুটিয়ে গেছে আইরিশরা।
মিরপুরের উইকেটে যে বাংলাদেশি স্পিনাররা আধিপত্য দেখাবেন, এটা জানা কথা।
এ কারণেই ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন সেশনের বেশিরভাগ সময়ই স্পিন বলের বিপরীতে ব্যাটিং অনুশীলন করেন সফরকারীরা। তবে আইরিশদের পূর্বানুমান ভেঙে প্রথম আঘাত হানেন পেসার মারুফা আক্তার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে পরপর দুই ডেলিভারিতে দুই উইকেট তুলে নেন ১৯ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার।
অফস্ট্যাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকা মারুফার ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে বিদায় নেন আইরিশ অধিনায়ক গ্যাবি লুইস (৫)। ওভারের পরের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন অ্যামি হান্টার (০)। আয়ারল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে তখন ১০ রান।এমন পরিস্থিতিতে আরেক ওপেনার সারাহ ফোর্বসকে সঙ্গে নিয়ে বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা চালাতে থাকেন অরলা প্রেনডারগাস্ট। দুজনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৮ রান পায় আইরিশরা।
ইনিংসের ১৩তম ওভারের শেষ বলে প্রেনডারগাস্টকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাহিদা। ৩৪ বলে ১৯ রান করা আইরিশ ব্যাটার মিড অনে রাবেয়ার হাতে ধরা পড়েন। এরপর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশি স্পিনে আইরিশদের সংগ্রাম। ধুঁকে ধুঁকে রান তোলার মধ্যেই ৫৯ রানে ওপেনার সারা ফোর্বসকে (৫১ বলে ২৫ রান) হারায় সফরকারীরা। স্বর্ণার থ্রো ধরে আইরিশ ওপেনারকে রান আউট করেন রাবেয়া। ২ রানের ব্যবধানে আরেক ব্যাটসম্যান লিয়াহ পলকেও রান আউট করেন স্বর্ণা (০)।
৬১ রানে ৫ উইকেট হারানো আইরিশদের বড় হার অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায়। উনা রেমন্ড হোয়েকে নিয়ে হারের ব্যবধান কমাতে থাকেন লরা ডেলানি। দুজনের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ২৩ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। এরপর বাংলাদেশি স্পিনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পরের ১৪ রানেই শেষ ৫ উইকেট হারায় সফরকারী।
বাংলাদেশের হয়ে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন নাহিদা আক্তার। এছাড়া সুলতানা ২৩ রানে ৩ উইকেট ও মারুফা ১৮ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন।